স্বামী বিবেকানন্দের ২৫০টি বাণী সংকলন

স্বামী বিবেকানন্দের ২৫০টি প্রামাণিক বাণী সংকলন

১. আত্মশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ

ক. আত্মবিশ্বাস ও ঈশ্বরবিশ্বাস

১. “বিশ্বাস, বিশ্বাস, বিশ্বাস—নিজের উপর বিশ্বাস, ঈশ্বরে বিশ্বাস—ইহাই উন্নতিলাভের একমাত্র উপায়।”. ****-উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৯ (Complete Works, Vol. 5, ‘Letters’)

২. “পৃথিবীর ইতিহাস কয়েকখানি আত্মবিশ্বাসী মানুষেরই ইতিহাস। সেই বিশ্বাসই ভিতরের দেবত্ব জাগ্রত করে।” ****উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭২ (Complete Works, Vol. 1, ‘Raja Yoga’)

৩. “আমাদের প্রথম কর্তব্য হল নিজেকে ঘৃণা না করা। উন্নত হইতে হইলে প্রথম নিজের উপর, তারপরে ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস আবশ্যিক। যাহার নিজের উপর বিশ্বাস নাই, তাহার কখনই ঈশ্বরে বিশ্বাস আসিতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৪. “তাহারা আত্মবিশ্বাসী হউক। ইংরেজ জাতির সঙ্গে তোমাদের এত প্রভেদ কিসে?… ইংরেজ নিজের উপর বিশ্বাসী, তোমরা বিশ্বাসী নও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৪ (Complete Works, Vol. 5, ‘Letters’)

৫. “মনে করিও না তোমরা দরিদ্র। অর্থই বল নহে, সাধুতাই-পবিত্রতাই বল। আপনাতে বিশ্বাস রাখো, প্রবল বিশ্বাসই বড় কাজের জনক।” **********উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)********

খ. অন্তরের শক্তি ও আত্মনির্ভরতা

৬. “উত্তান হও, জাগ্রত হও এবং অভীষ্ট লাভে না পৌঁছানো পর্যন্ত ক্ষান্ত হইও না।” (উপনিষদের ‘উত্তিষ্ঠত জাগ্রত…’ বাক্য)

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘কলিকাতায় প্রদত্ত অভ্যর্থনার উত্তর’ (Complete Works, Vol. 3)

৭. “উঠে দাঁড়াও, সাহসী হও, বীর্যবান হও। সকল দায়িত্ব নিজের স্কন্ধে গ্রহণ কর এবং স্মরণ রাখিও—তুমিই নিজের ভাগ্যবিধাতা। তোমার যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন, সবটাই তোমার মধ্যে রয়েছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Complete Works, Vol. 2)

৮. “সব শক্তিই আপনার মধ্যে আছে, সেটার উপর বিশ্বাস রাখুন। এটা বিশ্বাস করবেন না যে আপনি দুর্বল। দাঁড়ান এবং আপনার মধ্যেকার দৈবত্বকে চিনতে শিখুন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

৯. “মানুষকে সর্বদা তার দুর্বলতার বিষয় ভাবতে বলা, তার দুর্বলতার প্রতিকার নয়। তার শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াই প্রতিকারের উপায়। তার মধ্যে যে শক্তি আগে থেকেই বর্তমান, তার বিষয় স্মরণ করিয়ে দাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 2)

১০. “যদি সত্যিই মন থেকে কিছু করতে চাও তাহলে পথ পাবে, আর যদি না চাও তাহলে অজুহাত পাবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (উপদেশাবলী)

১১. “অন্য কারোর জন্য অপেক্ষা করো না। তুমি যা করতে পারো সেটা করো, কিন্তু অন্যের উপর আশা করো না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

গ. শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি

১২. “যা কিছু তোমাদিগকে শারীরিক, মানসিক বা আধ্যাত্মিক দুর্বল করে, তাকে বিষবৎ পরিত্যাগ কর; উহার মধ্যে জীবন নাই, উহা কখনও সত্য হইতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘মাদুরায় প্রদত্ত অভ্যর্থনার উত্তর’ (Complete Works, Vol. 3)

১৩. “জগতে যদি কিছু পাপ থাকে, তবে দুর্বলতাই সেই পাপ। সকল প্রকার দুর্বলতা ত্যাগ করো… দুর্বলতায় মৃত্যু, দুর্বলতায় পাপ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

১৪. “যেই রকম আপনি ভাববেন ঠিক সেইরকমই আপনি হয়ে যাবেন। যদি নিজেকে দুর্বল মনে করেন তবে দুর্বল হবেন, আর যদি নিজেকে শক্তিশালী মনে করেন তবে শক্তিশালী হবেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

১৫. “বিশ্ব একটি বিশাল ব্যায়ামাগার, যেখানে আমরা নিজেদেরকে শক্তিশালী করতে এসেছি।”

উৎস: Complete Works, Vol. 5, ‘Notes of Class Talks and Lectures’

১৬. “মনের শক্তি সূর্যের কিরণের মতো, যখন এটি এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয় তখনই এটি আলোকিত হয়ে ওঠে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৭. “মস্তিষ্ক ও হৃদয়ের (মন ও বুদ্ধির) মধ্যে দ্বন্দ্ব উপস্থিত হইলে হৃদয়কেই অনুসরণ করিও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘ধর্মের বিভিন্ন রূপ’ (Complete Works, Vol. 1)

ঘ. কর্মভাবনা, ব্যর্থতা ও সাফল্য

১৮. “একটি ভাবনা বা লক্ষ্য বেছে নাও এবং তাকেই নিজের জীবন বানিয়ে ফেলো। সেই ভাবনার কথাই চিন্তা করো, তারই স্বপ্ন দেখো এবং সেই ভাবনার ওপর ভিত্তি করেই বাঁচো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৯. “বিফলতা, ভ্রম থাকিলেই বা; গরুকে কখনও মিথ্যা কথা বলিতে শুনি নাই, কিন্তু উহা চিরকাল গরুই থাকে, কখনই মানুষ হয় না… অতএব ভুল করিলেও কুচ পরোয়া নেই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭৬ (Complete Works, Vol. 2)

২০. “যে রকম বীজ আমরা বুনি, সে রকমই ফসল আমরা পাই। আমরাই আমাদের ভাগ্য তৈরি করি, তার জন্য কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই, কাউকে প্রশংসা করারও কিছু নেই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড

২১. “সাহসী লোকেরাই বড় বড় কাজ করতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২২. “এক দিনে বা এক বছরে সফলতার আশা কোরো না। সবসময় শ্রেষ্ঠ আদর্শকে ধরে রাখো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২৩. “সারাদিন চলার পথে যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হও, তাহলে বুঝবে তুমি ভুল পথে চলেছ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (উপদেশাবলী)

২৪. “পিছনে তাকিও না, শুধু সামনের দিকে তাকাও… অসীম শক্তি, অসীম উদ্যম, অসীম সাহস এবং অসীম ধৈর্য—এরা একাই পারে মহান কোনো কর্ম সম্পন্ন করতে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

ঙ. আত্মসংযম ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ

২৫. “দিনে একবার হলেও নিজের সঙ্গে কথা বলো, তা না হলে তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে গুণী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা থেকে বঞ্চিত হবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (উপদেশাবলী)

২৬. “দুনিয়া আপনার সম্বন্ধে কি ভাবছে সেটা তাদের ভাবতে দিন। আপনি আপনার লক্ষ্যগুলিতে দৃঢ় থাকুন, দুনিয়া একদিন আপনার পায়ের সম্মুখে লুটিয়ে পড়বে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২৭. “তোমরা সকলে ভাবো—‘আমরা অনন্ত বলশালী আত্মা’; দেখ দিকি কি বল বেরোয়। ‘দীনহীনা!’ কিসের ‘দীনহীনা’? আমি ব্রহ্মময়ীর বেটা! কিসের রোগ, কিসের ভয়, কিসের অভাব? ‘দীনহীনা’ ভাবকে কুলোর বাতাস দিয়ে বিদেয় কর দিকি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৫ (পত্রাবলী)

২৮. “হে বীরহৃদয় যুবকগণ, তোমরা বিশ্বাস কর যে, তোমরা বড় বড় কাজ করবার জন্য জন্মেছ। কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাকে ভয় পেও না—এমন কি আকাশ থেকে প্রবল বজ্রাঘাত হলেও ভয় পেও না—খাড়া হয়ে ওঠ, ওঠ, কাজ কর।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৮ (পত্রাবলী)

২৯. “নিজের জীবনে ঝুঁকি নিন, যদি আপনি জেতেন তাহলে নেতৃত্ব করবেন, আর যদি হারেন তাহলে আপনি অন্যদের সঠিক পথ দেখাতে পারবেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (উপদেশাবলী)

৩০. “প্রার্থনা করা অপেক্ষা প্রাণ খুলিয়া হাসা অনেক ভালো। গান কর। দুঃখের হাত হইতে নিষ্কৃতি লাভ কর।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

চ. চরিত্র গঠন ও অন্তরের অসীম শক্তি (সংযোজন)

৩১. “যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাটা দু-একটি বিষয়ে শিখিয়ে দেওয়া হতো, তবে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও পাপ দূর হয়ে যেত। সমস্ত ধর্মেই আত্মবিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় নাস্তিক সে-ই, যে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Complete Works, Vol. 2)

৩২. “চরিত্র গঠনই সকল শিক্ষার মূল কথা। যে শিক্ষা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখায় না, তা শিক্ষার নামবাচ্য নয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

৩৩. “আমাদের মন যেন নদীর তরঙ্গের মতো চঞ্চল না হয়। স্থির, শান্ত ও দৃঢ় মনই একমাত্র মহান চরিত্র গঠন করতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৩৪. “কাউকে কখনো দুর্বল ভেবো না। তুমি শক্তিমান, তোমার মধ্যে অসীম সম্ভাবনা লুক্কায়িত আছে। তুমি যা চাও, তা-ই হতে পারো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

৩৫. “ভয়ই হলো মৃত্যুর কারণ, ভয়ই হলো পাপের কারণ, ভয়ই হলো সমস্ত দুঃখের উৎস। আর নির্ভীকতাই হলো একমাত্র ধর্ম।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘বেদান্তের বার্তা’ (Complete Works, Vol. 3)

৩৬. “সিংহ যেমন নিজের শক্তি সম্বন্ধে সচেতন হয়ে গর্জন করে ওঠে, তোমরাও তেমনি নিজেদের অন্তরের দিব্য শক্তি জাগ্রত করে গর্জে ওঠো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৩৭. “জগতে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। যে মানুষ নির্ভীক, তার কাছে সমগ্র জগৎ বশীভূত হয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 2)

৩৮. “কখনো ভেবো না যে তুমি কোনো কাজ একা করতে পারবে না। জগতের সমস্ত মহান কাজ একক ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র একদল মানুষের দ্বারাই শুরু হয়েছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৩৯. “কাজ করে যাও, ফলের আশা কোরো না। কর্মই তোমার অধিকার, ফল দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ ঈশ্বরের হাতে। নিঃস্বার্থ কর্মেই আসল আনন্দ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৪০. “পাহাড়ের মতো বাধা আসুক না কেন, স্থির থাকো। সত্য ও ন্যায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেলে জয় একদিন আসবেই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৮ (পত্রাবলী)

৪১. “যদি তোমার স্বপ্ন অনেক বড় হয়, তবে ছোট ছোট বিষয়ে মন খারাপ বা হতাশ হওয়া ছেড়ে দাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

৪২. “পবিত্রতা, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়—এই তিনটিই সফলতার প্রধান চাবিকাঠি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ভালবাসা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

৪৩. “আমরা যা চিন্তা করি, তা-ই আমাদের জীবন গড়ে তোলে। তাই তুমি যা চিন্তা করছ, তার বিষয়ে সতর্ক থাকো। শব্দ গৌণ, চিন্তাই স্থায়ী।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৪৪. “যে মানুষ নিজের মনকে জয় করেছে, সে সমগ্র জগৎ জয় করেছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৪৫. “তুচ্ছ আত্মচিন্তা ত্যাগ করো। যখন তুমি অন্যের কল্যাণের জন্য কাজ শুরু করবে, তখন তোমার ভেতরের সুপ্ত শক্তিগুলো আপনা থেকেই জেগে উঠবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড (পত্রাবলী)

২. শিক্ষা, জ্ঞান ও চরিত্র গঠন (৪৬–৮৫)

ক. শিক্ষার প্রকৃত সংজ্ঞা ও আদর্শ

৪৬. “শিক্ষা হচ্ছে মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে বিদ্যমান পূর্ণতার বিকাশ।” (Education is the manifestation of the perfection already in man.)

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 4)

৪৭. “আমরা সেই শিক্ষা চাই, যার দ্বারা চরিত্র গঠিত হয়, মনের বল বাড়ে, বুদ্ধি বিকশিত হয় এবং যার দ্বারা মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, ‘ভাববার কথা’ (Complete Works, Vol. 5)

৪৮. “বিদ্যাশিক্ষা কাকে বলি? বই পড়া?—না। নানাবিধ জ্ঞানার্জন?—তাও নয়। যে সংযম দ্বারা ইচ্ছাশক্তির বেগ ও স্ফূর্তি নিজের আয়ত্তাধীন ও সফলকাম হয়, তাহাই শিক্ষা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৮ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৯ (Complete Works, Vol. 8)

৪৯. “মনকে রাশি রাশি তথ্য দিয়া ভরিয়ে রাখার নাম শিক্ষা নয়… মনকে সম্পূর্ণ বশীভূত করা—ইহাই হইল শিক্ষার আদর্শ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১০ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৩ (Complete Works, Vol. 10)

৫০. “আমার মতে মনের একাগ্রতা-সাধনই শিক্ষার প্রাণ, শুধু তথ্য সংগ্রহ করা নহে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩৫ (Complete Works, Vol. 3)

৫১. “আমাদের বালকদের যে বিদ্যাশিক্ষা হইতেছে, তাও একান্ত নেতিভাবপূর্ণ (Negative)… তাহার ফল শ্রদ্ধাহীনতা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৭ (Complete Works, Vol. 7)

৫২. “শিক্ষা মজ্জাগত হইয়া কৃষ্টিতে পরিণত হইলে ভাববিপ্লবের ধাক্কা সহ্য করিতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৭ (Complete Works, Vol. 5)

খ. অন্তরের জ্ঞান ও স্বশিক্ষণ

৫৩. “মহাবিশ্বের সীমাহীন পুস্তকালয় আপনার নিজের মনের ভিতর অবস্থিত। সমস্ত জ্ঞানই মানুষের ভিতর অন্তর্নিহিত; বাহ্যিক জগৎ কেবল তাহাকে জাগাইয়া দেওয়ার উপলক্ষ্য মাত্র।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৫৪. “তোমাকে ভিতর থেকে বাড়তে হবে। তোমাকে কেউ শিক্ষিত করতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি নিজে চেষ্টা করছ। মনে রাখবে, তোমার নিজের আত্মা ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক নেই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 1)

৫৫. “চারাগাছকে যেমন জোর করে বাড়ানো যায় না, শিশুকেও তেমনি চেষ্টা করে শিক্ষা দেওয়া যায় না। চারাগাছটি নিজের স্বভাব অনুসারে বর্ধিত হয়; শিশুও নিজ চেষ্টাতেই শিক্ষা লাভ করে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৪র্থ খণ্ড (Complete Works, Vol. 4)

৫৬. “যতদিন বেঁচে আছো, ততদিন শিখতে থাকো। কারণ অভিজ্ঞতাই জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (উপদেশাবলী)

গ. শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাদান পদ্ধতি

৫৭. “তিনিই প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারেন, যাঁহার কিছু দিবার আছে… শিক্ষা-প্রদান বলিতে বুঝায় ভাব-সঞ্চার।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৮ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৯ (Complete Works, Vol. 8)

৫৮. “সর্বপ্রকার শিক্ষার অর্থই আদান-প্রদান—আচার্য দিবেন, শিষ্য গ্রহণ করিবেন…”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৮ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৯ (Complete Works, Vol. 8)

৫৯. “শিক্ষকের কার্য কেবল পথ থেকে সব অন্তরায় সরিয়ে দেওয়া… অপরের অধিকারে হাত দিও না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০০ (Complete Works, Vol. 6)

৬০. “শিক্ষকদিগের প্রতি অগাধ বিশ্বাসসম্পন্ন হইতে হইবে… ছাত্ররা যাহাতে নিজেরা চিন্তা করিতে শেখে, এই বিষয়ে তাহাদিগকে উৎসাহ দিতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪২ (Complete Works, Vol. 5)

৬১. “ছোট ছেলেদের ‘গাধা পিটে ঘোড়া করা’-গোছ শিক্ষা দেওয়াটা একেবারে তুলে দিতে হবে… ‘আমি শেখাচ্ছি’ মনে করেই শিক্ষক সব মাটি করে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৯ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০১ (Complete Works, Vol. 9)

৬২. “শিক্ষকের চরিত্রে অপাপবিদ্ধতা, চিত্তশুদ্ধি, নির্লোভতা, শাস্ত্রের যথার্থ মর্মার্থ জ্ঞান ও প্রেমপরতা অত্যাবশ্যক।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

ঘ. গণশিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা ও চরিত্র গঠন

৬৩. “কেন এই পার্থক্য হইল? শিক্ষা—জবাব পাইলাম… শিক্ষাবলে আত্মপ্রত্যয়, আত্মপ্রত্যয়-বলে অন্তর্নিহিত ব্রহ্ম জাগিয়া উঠিতেছেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৬ (Complete Works, Vol. 7)

৬৪. “চণ্ডালের বিদ্যাশিক্ষার যত আবশ্যক, ব্রাহ্মণের তত নহে… তেলা মাথায় তেল দেওয়া পাগলের ধর্ম।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৬ (পত্রাবলী)

৬৫. “পাহাড় যদি মহম্মদের নিকট না যায়, মহম্মদকেই পাহাড়ের নিকট যাইতে হইবে। অর্থাৎ দরিদ্রের ছেলেরা যদি স্কুলে লেখাপড়া শিখিতে না পারে, তবে বাড়ী বাড়ী গিয়া তাহাদের শিখাইতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৬৬. “আমাদের চাই কি জানিস? স্বাধীনভাবে স্বদেশী বিদ্যার সঙ্গে ইংরেজী ও বিজ্ঞান পড়ানো, চাই কারিগরি শিক্ষা…”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৯ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৩ (Complete Works, Vol. 9)

৬৭. “মস্তিষ্ককে উচ্চমানের চিন্তাভাবনা দিয়ে পূর্ণ করো, দিবারাত্র এগুলোকে তোমার সামনে রেখে চলো, এগুলোর থেকেই মহান কাজ বেরিয়ে আসবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Complete Works, Vol. 2)

৬৮. “জগতে এখন একান্ত প্রয়োজন হলো চরিত্র; জগৎ এখন তাঁদের চায়—যাঁদের জীবন প্রেমদীপ্ত ও স্বার্থশূন্য।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড (পত্রাবলী)

৬৯. “যে সমস্ত জ্ঞান তোমায় শক্তিশালী ও মজবুত করে তাকে গ্রহণ করো, এবং যে বিচার ও জ্ঞান তোমায় দুর্বল করে দেয় তাকে দূর করে দাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘মাদুরায় প্রদত্ত অভ্যর্থনার উত্তর’ (Complete Works, Vol. 3)

৭০. “কোথাও কিছু শুনেছ বলেই তার ওপর বিশ্বাস করা নিরর্থক। যতক্ষণ না নিজের যুক্তিবুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সত্য বলে উপলব্ধি করছ, ততক্ষণ অন্ধভাবে বিশ্বাস কোরো না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

ঙ. আত্মউপলব্ধি ও চিন্তাশক্তি (সংযোজন)

৭১. “পবিত্রতা, জ্ঞান অর্জন ও তা বিস্তারের জন্য যে নিঃস্বার্থ আগ্রহ—এটাই হলো জ্ঞানীর আসল পরিচয়। জ্ঞান অর্জন করার অর্থ বইয়ের পাতায় শব্দ জমা করা নয়, অন্তরের বিবেককে জাগ্রত করা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

৭২. “যে জ্ঞান মানুষকে নম্র করে না, কেবল অহংকার বাড়ায়—তা প্রকৃত জ্ঞান নয়, তা কেবল তথ্যের বোঝা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘জ্ঞানের আলো’ (Complete Works, Vol. 1)

৭৩. “প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে অন্যের অনুকরণ করতে শেখায় না, বরং নিজের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যকে বিকশিত করতে সাহায্য করে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

৭৪. “টাকা-পয়সা, মান-সম্মান বা বিদ্যা—কোনোটাই স্থায়ী নয়। একমাত্র চরিত্রই মানুষকে অমরত্ব দেয়। তাই সবকিছুর আগে চরিত্র গঠন করো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Complete Works, Vol. 2)

৭৫. “একশটি ভালো কাজের চিন্তার চেয়ে একটি ছোট ভালো কাজ করা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ। কাজের মাধ্যমেই চরিত্রের পরীক্ষা হয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৭৬. “সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা চলে, কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা চলে না। সত্যনিষ্ঠাই হলো চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২ (পত্রাবলী)

৭৭. “যার হৃদয়ে গভীর দয়া ও নীতিবোধ নেই, তার উচ্চশিক্ষা সমাজে কেবল বিষাক্ত আবহাওয়াই তৈরি করতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

৭৮. “নারীদের শিক্ষার প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তাদের নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেদের সমাধান করতে শেখানো। আমাদের কাজ কেবল তাদের পথ সহজ করে দেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নিজেদের।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

৭৯. “শিক্ষিত ও চরিত্রবান নারী তৈরি না হলে কোনো জাতির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। সীতা, সাবিত্রী ও মৈত্রেয়ীর আদর্শে আজ দেশের নারীদের গড়ে তুলতে হবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৪ (Complete Works, Vol. 7)

৮০. “মনকে যত বেশি একাগ্র করতে পারবে, জ্ঞানের আলো তত বেশি উজ্জ্বল হবে। মনঃসংযোগই হলো সমস্ত বিদ্যার চাবিকাঠি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৮১. “কোনো একটি ধারণাকে আঁকড়ে ধরে থাকো। সেটিকে তোমার মস্তিষ্কে, পেশীতে, রক্তে মিশিয়ে নাও। অন্য সব চিন্তা মাথা থেকে বের করে দাও—এটাই সাফল্যের ও সুশিক্ষার পথ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৮২. “যা কিছু সহজ বা কষ্টহীন, তা সবসময় সত্য বা শিক্ষণীয় নাও হতে পারে। যা তোমার চিন্তাশক্তিকে উদ্দীপিত করে এবং লড়াই করতে শেখায়, সেটাই প্রকৃত পাঠ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 2)

৮৩. “যদি তরুণ সমাজকে নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমে দীক্ষিত করা যায়, তবে একটি প্রজন্মের মধ্যেই পুরো জাতির চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের যুবকবৃন্দের প্রতি’ (Complete Works, Vol. 3)

৮৪. “যে শিক্ষা মানুষকে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে না, তা শিক্ষার নামান্তরমাত্র।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৮৫. “জাতীয় জীবনের ভিত্তি হলো ধর্ম ও শিক্ষা। এই দুটি বিষয়কে বাদ দিয়ে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৪থ খণ্ড, ‘আমাদের ভারতের সংস্কার’ (Complete Works, Vol. 4)

৩. ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা ও উপাসনা (৮৬–১১৭)

ক. ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ ও সাধনা

৮৬. “ধর্ম এমন একটি ভাব, যাহা পশুকে মনুষ্যত্বে এবং মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ধর্মের তত্ত্ব’ (Complete Works, Vol. 3)

৮৭. “ধর্ম মানে কেবল কতকগুলি মতবাদ বা অনুষ্ঠান নয়; ধর্ম মানে উপলব্ধি, ধর্ম মানে সাধনা। সৎ হওয়া এবং সৎ কর্ম করা—এই দুয়ের মধ্যেই সমগ্র ধর্ম।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৮৮. “পবিত্র ও নিঃস্বার্থ হতে চেষ্টা কোরো; তার মধ্যেই রয়েছে সমস্ত ধর্ম।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৮৯. “শক্তি ও সাহসিকতাই ধর্ম; দুর্বলতা ও কাপুরুষতাই পাপ। অপরকে ভালোবাসাই ধর্ম, অপরকে ঘৃণা করাই পাপ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

৯০. “ঘৃণার শক্তি অপেক্ষা প্রেমের শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৯১. “ধর্মকে আমি শিক্ষার ভিতরকার সার জিনিস বলিয়াই মনে করি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৯ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮২ (Complete Works, Vol. 9)

খ. ঈশ্বর, আত্মতত্ত্ব ও মানবসেবা

৯২. “প্রথমে অন্নের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর ধর্ম। খালি পেটে ধর্ম হয় না।” (শ্রীরামকৃষ্ণের উক্তি স্বামীজী কর্তৃক উদ্ধৃত)

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪০ (Complete Works, Vol. 6)

৯৩. “ভগবান যদিও সর্বত্র আছেন, কিন্তু তাঁকে আমরা জানতে ও বুঝতে পারি কেবল মানবচরিত্রের মধ্য দিয়ে। জীবসেবাই প্রকৃত ঈশ্বরসেবা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

৯৪. “যত বেশি আমরা বাইরে গিয়ে অন্যদের ভালো করব, আমাদের হৃদয় ততই বিশুদ্ধ হবে এবং ঈশ্বর সেখানে বাস করবেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৯৫. “ঈশ্বর ব্যতীত জীবনের উচ্চতর লক্ষ্য আর কী হইতে পারে? ঈশ্বর স্বয়ংই মানুষের সর্বোচ্চ লক্ষ্য—তাাঁহাকে দর্শন করো, তাঁহাকে সম্ভোগ করো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

৯৬. “তুমি যখন নিজেকে দেহমাত্র ভাবো, তখন তুমি বিশ্বজগৎ হইতে বিচ্ছিন্ন; নিজেকে যখন জীব ভাবো, তখন তুমি শাশ্বত মহান্ শক্তির একটি কণিকামাত্র; আর যখন নিজেকে আত্মা ভাবো, তখন তুমিই সব কিছু।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

৯৭. “আমাদের বিশ্বাস—সব প্রাণীই ব্রহ্মস্বরূপ। প্রত্যেক আত্মাই যেন মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো; একজনের সঙ্গে আর একজনের তফাত কেবল এই—কোথাও সূর্যের উপর মেঘের আবরণ ঘন, কোথাও এই আবরণ একটু পাতলা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভাবসম্পদ’ (Complete Works, Vol. 3)

গ. ভক্তি, আত্মনিবেদন ও সমন্বয়বাদ

৯৮. “অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে। তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্।—অর্থাৎ যারা আর কারও ওপর নির্ভর না ক’রে কেবল আমার ওপর নির্ভর ক’রে থাকে, তাদের যা কিছু দরকার, সব আমি যুগিয়ে দিই। ভগবানের এ কথাটা তো আর স্বপ্ন বা কবিকল্পনা নয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ‘পত্রাবলী’ (শ্রীশ্রীগীতা ৯।২২ থেকে উদ্ধৃত)

৯৯. “তিনি সকলেরই হৃদয়ে বিরাজ করিতেছেন। হৃদয় যদি পরিষ্কার না থাকে, তবে আত্মাকে দেখা যায় না। দর্পণে ময়লা থাকিলে যেমন চেহারা দেখা যায় না, তেমনি আমাদের হৃদয়-দর্পণেও অজ্ঞান ও পাপের ময়লা রহিয়াছে। সবচেয়ে বড় ময়লা হইল স্বার্থপরতা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১০০. “ঈশ্বরকে পেতে এখানে-সেখানে ঘোরার প্রয়োজন নেই; নিজের অন্তরকে স্থির করো এবং অন্তরেই তাঁহাকে খোঁজো। স্থির ও শান্ত মনের দ্বারাই জীবনের পরম সত্যকে অনুভব করা সম্ভব।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

১০১. “আমার লক্ষ্য কেবল ভেতরের আত্মতত্ত্বের দিকে; সেইটি যদি ঠিক হয়ে যায়, তবে আর সবই ঠিক হয়ে যাবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১০২. “ঈশ্বরই তাঁহার সন্তানগণকে সমুদ্রগর্ভেও রক্ষা করিয়া থাকেন!”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, ‘পত্রাবলী’ (Complete Works, Vol. 5)

১০৩. “পশ্চিমের বিজ্ঞান আর প্রাচ্যের ধ্যান, পশ্চিমের কর্মশক্তি আর প্রাচ্যের ধর্মবোধ—এই দুয়ের মধ্যে একটি সুস্থ মিলন চাই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১০৪. “আমি দৃঢ়ভাবে বলিতেছি, হিন্দুসমাজের উন্নতির জন্য ধর্মকে নষ্ট করিবার কোন প্রয়োজন নাই। ধর্মকে সামাজিক ব্যাপারে যেভাবে কাজে লাগানো উচিত, তাহা হয় নাই বলিয়াই সমাজের এই অবস্থা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬ (পত্রাবলী)

১০৫. “কোন ধর্মকে ফলপ্রসূ করতে হ’লে তাই নিয়ে একেবারে মেতে যাওয়া দরকার; অথচ যাতে সঙ্কীর্ণ সাম্প্রদায়িক ভাব না আসে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

১০৬. “হিন্দু যেন কখনো তাহার ধর্ম ত্যাগ না করে। তবে ধর্মকে উহার নির্দিষ্ট সীমার ভিতর রাখিতে হইবে, আর সমাজকে উন্নতির স্বাধীনতা দিতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১০৭. “আমার ধারণা, বেদান্ত—কেবল বেদান্তই সার্বভৌমিক ধর্ম হইতে পারে, আর কোন ধর্মই নয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘বেদান্ত ও মানবসমাজ’ (Complete Works, Vol. 3)

ঘ. অসাম্প্রদায়িকতা ও প্র্যাকটিক্যাল বেদান্ত (সংযোজন)

১০৮. “বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪২ (‘সখার প্রতি’ কবিতা)

১০৯. “দরিদ্র, মূর্খ, অজ্ঞানী, কাতর—ইহাদেরই তোমার ঈশ্বর বলিয়া জ্ঞান করো, ইহাদের সেবাই পরম ধর্ম।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১১০. “মন্দিরে কেবল মূর্তি পূজা করিলেই ধর্ম হয় না। নরদেহে বিরাজিত নারায়ণের সেবা করাই সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসনা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Complete Works, Vol. 3)

১১১. “আমি এমন একটি ধর্মের বিশ্বস্ত অনুগামী হতে পেরে গর্বিত, যা বিশ্বকে পরমতসহিষ্ণুতা এবং সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা দুই-ই শিক্ষা দিয়েছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘চিকাগো মহাসভা – প্রথম দিনের ভাষণ’ (১৮৯৩)

১১২. “যেমন সকল নদী বিভিন্ন স্থান হইতে উৎপন্ন হইয়া অবশেষে সমুদ্রে গিয়া মিশিয়া যায়, তেমনই মানুষ নিজ নিজ রুচি ও প্রবণতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করিলেও শেষপর্যন্ত একই ঈশ্বরের নিকট পৌঁছায়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘চিকাগো ধর্মমহাসভা’

১১৩. “সাম্প্রদায়িকতা, অন্ধবিশ্বাস এবং এদের বীভৎস রূপান্তর গোঁড়ামি এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল ধরে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এগুলো না থাকলে মানবসমাজ আজ আরও অনেক দূর উন্নত হতো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘চিকাগো মহাসভা’ (Complete Works, Vol. 1)

১১৪. “ঈশ্বরকে পাইবার জন্য কোনো প্রকার বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নাই; একমাত্র ব্যাকুলতা এবং নিষ্কাম ভালোবাসাই ঈশ্বরলাভের সহজ পথ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

১১৫. “বেদান্ত কোনো নতুন ধর্ম প্রচার করে না; ইহা কেবল মানুষকে তাহার নিজের প্রকৃত সত্তা এবং অনন্ত শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

১১৬. “যিনি নিষ্কাম ও অহংকারশূন্য, পরমেশ্বর তাঁহার হৃদয়েই আত্মপ্রকাশ করেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১১৭. “তুমি যদি নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান বলিয়া বিশ্বাস করো, তবে কোনো শক্তিই তোমাকে পথভ্রষ্ট করিতে পারিবে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

৪. কর্ম, কর্মযোগ ও মানবসেবা (১১৮–১৫৪)

ক. জীবসেবা ও আত্মত্যাগ

১১৮. “বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪২ (‘সখার প্রতি’ কবিতা)

১১৯. “ঈশ্বরের অন্বেষণে কোথায় যাইতেছ? দরিদ্র, দুঃখী, দুর্বল—সকলেই কি তোমার ঈশ্বর নহে? অগ্রে তাহাদের উপাসনা কর না কেন? গঙ্গাতীরে বাস করিয়া কূপ খনন করিতেছ কেন? প্রেমের সর্বশক্তিমত্তায় বিশ্বাস করো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড (পত্রাবলী)

১২০. “দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে আমি যেন ঈশ্বরকে দেখি; নিজের মুক্তির জন্য তাদের কাছে গিয়ে তাদেরই পূজা করব, ঈশ্বর তাদের মধ্যে রয়েছেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১২১. “তোর দুয়ারে স্বয়ং নারায়ণ কাঙ্গালবেশে এসে অনাহারে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে রয়েছেন, তাঁকে না দিয়ে খালি নিজে ও নিজের স্ত্রী-পুত্রদেরই নানাপ্রকার চর্ব-চোষ্য দিয়ে পূর্তি করা—সে তো পশুর কাজ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৯ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৫ (Complete Works, Vol. 9)

১২২. “আপনার ভাল কেবল পরের ভালয় হয়, আপনার মুক্তি এবং ভক্তিও পরের মুক্তি ও ভক্তিতে হয়—তাইতে লেগে যাও, মেতে যাও, উন্মাদ হয়ে যাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১০ (পত্রাবলী)

১২৩. “আমি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি, মানুষকে বিশ্বাস করি; দুঃখী দরিদ্রকে সাহায্য করা, পরের সেবার জন্য নরকে যাইতে প্রস্তুত হওয়া—আমি খুব বড় কাজ বলিয়া বিশ্বাস করি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭ (পত্রাবলী)

১২৪. “ত্যাগের দ্বারাই মহৎ কার্য সাধিত হয়। অন্যকে যদি সাহায্য করিতে চাও, তবে তোমার নিজের অহংকে বিসর্জন দিতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

খ. কর্মযোগের নীতি ও নিষ্ঠা

১২৫. “একটি সময়ে একটিই কাজ কোরো এবং সেটা করার সময় নিজের সব কিছু তার মধ্যে ঢেলে দাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১২৬. “মনের মতো কাজ পেলে অতি মূর্খও করতে পারে। যে সকল কাজকেই মনের মতো করে নিতে পারে, সেই বুদ্ধিমান। কোনো কাজই ছোট নয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১২৭. “সকল কাজ করো, কিন্তু অনাসক্ত হয়ে করো। কাজের জন্যই কাজ করো, কখনও নিজের স্বার্থের জন্য কোরো না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১২৮. “জ্ঞান, ভক্তি, যোগ এবং কর্ম—মুক্তির এই চারটি পথ। প্রত্যেকের কর্তব্য তার উপযুক্ত পথ অনুসরণ করে চলা। তবে এই যুগে কর্মযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

১২৯. “নিরাশ হইও না। স্মরণ রাখিও, ভগবান গীতায় বলিতেছেন—‘কর্মে তোমার অধিকার, ফলে নয়’।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৩০. “কর্মের ফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে কাজের উদ্দেশ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৩১. “কোনো জীবনই ব্যর্থ হইবে না, জগতে ব্যর্থতা বলিয়া কিছু নাই। শতবার মানুষ নিজেকে আঘাত করিবে, সহস্রবার হোঁচট খাইবে, কিন্তু পরিণামে অনুভব করিবে—সে ঈশ্বর।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

গ. নেতৃত্ব, সংগঠন ও কর্মপদ্ধতি

১৩২. “চালাকির দ্বারা কোনো মহৎ কর্ম হয় না। কোনো বড় কাজই কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট স্বীকার ছাড়া হয়নি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৯ (পত্রাবলী)

১৩৩. “ধীর, নিস্তব্ধ অথচ দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। খবরের কাগজে হুজুক করা নয়। সর্বদা মনে রাখবে, নাম-যশ আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৮ (পত্রাবলী)

১৩৪. “কারও ওপর হুকুম চালাবার চেষ্টা ক’রো না—যে অপরের সেবা করতে পারে, সেই যথার্থ সর্দার হ’তে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭২ (পত্রাবলী)

১৩৫. “ঈর্ষা ও অহমিকাভাব গঙ্গার জলে জন্মের মতো বিসর্জন দাও এবং মহাবলে কাজে লাগিয়া যাও। বাকি প্রভু সব পথ দেখাইয়া দিবেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৯ (পত্রাবলী)

১৩৬. “কখনও বড় পরিকল্পনার হিসাব করবেন না; ধীরে ধীরে আগে শুরু করুন, আপনার ভিত্তি নির্মাণ করুন, তারপর ধীরে ধীরে সেটিকে প্রসার করুন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৩৭. “কাজের সময় হাল ছেড়ো না, টিপে ধরে থেকো… Jealousy, selfishness আদপে থাকবে না, তবেই তো leader! Love conquers in the long run… সবুরে মেওয়া ফলবেই ফলবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩ ৯০ (পত্রাবলী)

১৩৮. “তুমি তোমার কাজ ক’রে যাও, আর মনে রেখো—‘ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিৎ দুর্গতিং তাত গচ্ছতি’ (কল্যাণকারী সৎকর্মশীল ব্যক্তির কখনো দুর্গতি হয় না)।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১২ (পত্রাবলী)

ঘ. পবিত্রতা, সত্যনিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ কর্ম (সংযোজন)

১৩৯. “পবিত্রতা, সহিষ্ণুতা ও অধ্যবসায়—এই তিনটি, এবং সর্বোপরি প্রেম সিদ্ধিলাভের জন্য একান্ত আবশ্যক।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

১৪০. “সাবধান! আমাদের মধ্যে যাহাতে কিছুমাত্র অসত্য প্রবেশ না করে। সত্যকে ধরিয়া থাকো, নিশ্চয় কৃতকার্য হইবে… ভারতের ভবিষ্যৎ তোমাদের উপর নির্ভর করিতেছে, কাজ করিয়া যাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮১ (পত্রাবলী)

১৪১. “ভাবের ঘরে যেন এতটুকু চুরি না থাকে, তা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ফলাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ ক’রে শুধু কাজ করেই খুশি থাকো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড (পত্রাবলী)

১৪২. “কাউকে নিন্দা কোরো না। যদি তুমি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারো তো দাও, না পারলে হাত জোড় করে তাকে আশীর্বাদ করো এবং তাকে তার নিজের পথে যেতে দাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৪৩. “যখন আমাদের মধ্যে অহংকার থাকে না, তখনই আমরা সবথেকে ভালো কাজ করতে পারি এবং অপরকে আমাদের ভাবে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করতে পারি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৪৪. “সর্বপ্রকার দানের মধ্যে বিদ্যাদান ও জ্ঞানদানই শ্রেষ্ঠ দান; তাহার পর প্রাণদান ও অন্নদান।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১০ (Complete Works, Vol. 5)

১৪৫. “দান করিবার সময়ে এই ভাব মনে রাখিবে যে, গ্রহীতা তোমাকে সেবা করিবার সুযোগ প্রদান করিয়া তোমার উপকার করিতেছেন; কারণ পরোপকার দ্বারা তোমার নিজেরই অন্তঃকরণ শুদ্ধ হইতেছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৪৬. “জগতের উপকার করা মানে প্রকৃতপক্ষে নিজেদের উপকার করা। আমরা যখন কাহাকে সাহায্য করি, তখন জগতের উপর নয়—নিজেদের উপরই দয়া করি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৪৭. “দরিদ্রের সেবা ও সমাজসেবাই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় উপাসনা। যে নরদেহে ঈশ্বর প্রত্যক্ষ বিচরণ করিতেছেন, তাঁহাকে সেবা না করিয়া মন্দির খুঁজিয়া বেড়ানো বৃথা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

১৪৮. “যদি মহৎ কার্য সাধন করিতে চাও, তবে মনে কোনোপ্রকার দ্বিধা রাখিও না। পরোপকারের জন্য জীবন ধারণ করাই জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য; যাহারা কেবল স্বার্থ লইয়া বাঁচে, তাহারা মৃততুল্য।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৪৯. “কাউকে কখনো ঘৃণা কোরো না বা হিংসা কোরো না। যদি কাহাকেও ভালোবাসিতে না পারো, অন্তত তাহার ক্ষতি সাধন কোরো না। প্রেমই কর্মের আসল চালিকা শক্তি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘ব্যবহারিক বেদান্ত’ (Complete Works, Vol. 2)

১৫০. “তোমার কর্মই তোমার পরিচয় গড়ে তোলে। মানুষ যেমন চিন্তা ও কর্ম করে, তাহার চরিত্র ঠিক সেইরূপই আকার ধারণ করে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৫১. “একত্রে মিলিয়া কাজ করার নামই সঙ্ঘশক্তি। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় অভাব সংগঠিত হইয়া কাজ করার অভ্যাসের। অহংকার বিসর্জন দিয়া সকলে মিলিলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৮ (পত্রাবলী)

১৫২. “ভবিষ্যতের দিকে না তাকাইয়া বর্তমানের কর্তব্যনিষ্ঠ হওয়াই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতিটি ছোট ছোট কাজ সতর্কতার সহিত সম্পন্ন করাই মহৎ কর্মে সাফল্যের মূল।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

১৫৩. “যাঁহারা নিঃস্বার্থভাবে পরের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, তাঁহারাই প্রকৃত কর্মী। অলস ও ভীতু লোক কখনোই কোনো মহান কাজের দায়িত্ব বহন করিতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১২ (পত্রাবলী)

১৫৪. “কাজের গতি হয়তো ধীর হইতে পারে, কিন্তু সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ কর্মের বিনাশ নাই। ধৈর্য ধরিয়া নিজের কর্তব্য করিয়া যাও, সময় আসিলে ফল লাভ হইবেই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৯ (পত্রাবলী)

৫. জীবনদর্শন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ (১৫৫–১৮০)

ক. সত্য, নীতি ও জীবনভাবনা

১৫৫. “সত্যের জন্য सबकुछকে ত্যাগ করা চলে, কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা চলে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২ (পত্রাবলী)

১৫৬. “সত্যকে হাজার আলাদা আলাদা উপায়ে বলা যেতে পারে, তবুও কিন্তু সব সত্যই থেকে যায়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

১৫৭. “আরাম বা স্বাচ্ছন্দ্য কখনো সত্যের পরীক্ষা নয়; অপরদিকে সত্য প্রায়শই স্বাচ্ছন্দ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 2)

১৫৮. “বড় হতে গেলে কোনো জাতির বা ব্যক্তির পক্ষে তিনটি বস্তুর প্রয়োজন: (১) সাধুতার শক্তিতে প্রগাঢ় বিশ্বাস, (২) হিংসা ও সন্দিগ্ধভাবের একান্ত অভাব, (৩) যাহারা সৎ হইতে কিংবা সৎ করিতে সচেষ্ট, তাহাদিগের সহায়তা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১২ (পত্রাবলী)

১৫৯. “ধৈর্য, পবিত্রতা ও অধ্যবসায়ের জয় হইবেই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

১৬০. “শক্তিই জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু; বিস্তারই জীবন, সংকোচনই মৃত্যু; প্রেমই জীবন, ঘৃণাই মৃত্যু।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৬১. “জীবনটা ক্ষণস্থায়ী স্বপ্নমাত্র, যৌবন ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়… ধন চলে যায়, সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যায়, জীবন দ্রুতগতিতে চলে যায়, শক্তি লোপ পেয়ে যায়; কিন্তু প্রভু চিরদিনই থাকেন, প্রেম চিরদিনই থাকে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৬২. “আমরা যেন প্রদীপ-স্বরূপ, আর ঐ প্রদীপের জ্বালাটাকেই আমরা ‘জীবন’ বলি। যখনই অম্লজান ফুরিয়ে যাবে, তখনই আলোটাও নিবে যাবে। আমরা কেবল প্রদীপটাকে পরিষ্কার রাখতে পারি। জীবনটা কতকগুলি জিনিষের মিশ্রণে উৎপন্ন, সুতরাং জীবন অবশ্যই তার উপাদান-কারণগুলিতে লীন হবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৬৩. “ইচ্ছা, অজ্ঞতা এবং বৈষম্য… এই তিনটিই হলো বন্ধনের ত্রিমূর্তি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

১৬৪. “সুখ বা আনন্দকে জীবনের পরম লক্ষ্য ভেবো না; জীবনের পরম লক্ষ্য হলো জ্ঞান, ভক্তি ও প্রেম—যার দ্বারাই মানুষ প্রকৃত শাশ্বত আনন্দ খুঁজে পায়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

খ. আচরণবিধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

১৬৫. “আমরা যা চিন্তা করি, আমাদের জীবন ঠিক সেই ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই সর্বদা পবিত্র ও উচ্চভাবাপন্ন চিন্তা পোষণ করা দরকার।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৬৬. “অনুতাপ কোরো না; পূর্বে যে-সব কাজ করেছ, সে-সব নিয়ে মাথা ঘামিও না—এমনকি যে-সব ভালো কাজ করেছ, তাও স্মৃতিপথ থেকে দূর করে দাও। বর্তমানের কর্তব্য সুচারুভাবে করে যাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

১৬৭. “অপরের দোষত্রুটি দেখিয়া বেড়ানো আমাদের কাজ নয়, উহাতে কোনো উপকার হয় না। ঐগুলির সম্বন্ধে আমরা চিন্তাও যেন না করি। সৎ চিন্তা করাই আমাদের উচিত। দোষের বিচার করিবার জন্য আমরা পৃথিবীতে আসি নাই, সৎ হওয়াই আমাদের কর্তব্য।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৬৮. “ভয় ও অপূর্ণ ইচ্ছাই আমাদের দুঃখের প্রধান কারণ। যখনই তুমি নিষ্কামী ও অভয় হবে, দুঃখ তখনই অপসৃত হবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 2)

১৬৯. “আমাদের মধ্যে যত বেশি প্রেম, পবিত্রতা এবং সদগুণ বৃদ্ধি পাবে, ততই আমরা প্রতিটি মানুষের মধ্যে এগুলো খুঁজে পাব।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৭০. “জগতে এখন একান্ত প্রয়োজন হলো চরিত্র; জগৎ এখন তাঁদের চায়—যাঁদের জীবন প্রেমদীপ্ত ও স্বার্থশূন্য।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড (পত্রাবলী)

গ. দুঃখ, বৈরাগ্য ও প্রেম (সংযোজন)

১৭১. “আত্মসংযম এবং নিজের মনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করাই হলো প্রকৃত মহত্ত্বের লক্ষণ। যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তিগুলোকে জয় করিতে পারিয়াছে, সমগ্র বিশ্ব তাহার অনুগত হয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘রাজযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৭২. “কোনো বাহ্যিক প্রভাবে বা ভয়ে নীতিবান হওয়া আসল নীতি নয়; অন্তরের পবিত্রতা ও প্রগাঢ় ধর্মবোধ হইতে যে আচার জন্মায়, তাহাই প্রকৃত নৈতিকতা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ধর্মের তত্ত্ব’ (Complete Works, Vol. 3)

১৭৩. “চরিত্রহীন বিদ্যা ও বল—উভয়ই সমাজের জন্য ক্ষতিকর। জগতের সকল সংস্কারের মূল চাবিকাঠি হলো মানুষের চরিত্র গঠন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

১৭৪. “সুখ ও দুঃখ—উভয়ই মহান শিক্ষক। কিন্তু দুঃখের পাঠ হইতেই মানুষ সুখের চেয়ে অনেক বেশি গভীর শিক্ষা লাভ করে এবং অন্তরের সুপ্ত শক্তিকে আবিষ্কার করিতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৭৫. “জগতে যদি শান্তি ও কল্যাণ চাও, তবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করো। তুমি বিশ্বকে যেরূপ দৃষ্টিতে দেখিবে, বিশ্ব তোমার নিকট ঠিক সেইরূপ রূপেই প্রতিভাত হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

১৭৬. “সংসার একটি মহাশিক্ষালয়। এখানে প্রতিকূলতা ও দুঃখকষ্ট আসিবেই—এগুলি আমাদিগকে দুর্বল করিবার জন্য নয়, বরং আমাদের আত্মাকে সবল ও খাঁটি করিবার জন্য আসে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

১৭৭. “স্বার্থপরতাই পাপের একমাত্র মূল। যেখানে ‘আমি’ ও ‘আমার’ ভাব বিদ্যমান, সেখানেই দুঃখের জন্ম। আর যেখানে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সেখানেই ঈশ্বরের বাস।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

১৭৮. “অন্যের জন্য একটু শুভচিন্তা বা একটি করুণাপূর্ণ বাক্য প্রকাশ করাও নিজের আত্মাকে উন্নত করে। নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই জীবনের আসল অস্তিত্ব।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৭৯. “কাউকে ছোট মনে কোরো না বা হেয় দৃষ্টিতে দেখিও না। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সেই এক শাশ্বত ব্রহ্ম বাস করিতেছেন, কেবল প্রকাশের তারতম্য মাত্র।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভাবসম্পদ’ (Complete Works, Vol. 3)

১৮০. “পবিত্র জীবনযাপন এবং উচ্চ আদর্শ ধরে রাখা কোনো সহজ কাজ নয়; ইহার জন্য প্রতিদিন ও প্রতিটি মুহূর্তে নিজের নিম্নতর প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে হয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১০ (পত্রাবলী)

৬. সমাজ, মানবতা ও জাতীয় চেতনা (১৮১–২১২)

ক. জাতীয় জাগরণ ও তরুণদের প্রতি আহ্বান

১৮১. “হে যুবকবৃন্দ, দরিদ্র, অজ্ঞ ও নিপীড়িত জনগণের ব্যথা তোমরা প্রাণে প্রাণে অনুভব করো; সেই অনুভবের বেদনায় তোমাদের হৃদয় রুদ্ধ হোক, মস্তিষ্ক ঘুরতে থাকুক, তোমাদের পাগল হয়ে যাবার উপক্রম হোক। তখন গিয়ে ভগবানের পাদপদ্মে অন্তরের ব্যথা জানাও—তবেই অদম্য উৎসাহ ও অনন্ত শক্তি আসবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭ (পত্রাবলী)

১৮২. “তোমাদের কি মন-মুখ এক হয়েছে? তোমরা কি মৃত্যুভয় পর্যন্ত তুচ্ছ করে নিঃস্বার্থভাবে থাকতে পারো? হৃদয়ে প্রেম আছে তো? যদি এগুলো থাকে তবে কোন কিছুকে ভয় করবার দরকার নেই। এগিয়ে যাও, সমগ্র জগৎ জ্ঞানালোক চাইছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৮৩. “এস, মানুষ হও। নিজেদের সংকীর্ণ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে গিয়ে দেখো, সব জাতি কেমন উন্নতির পথে চলেছে। তোমরা কি মানুষকে ভালোবাসো? দেশকে ভালোবাসো? তাহলে এস, আমরা ভালো হবার জন্য—উন্নত হবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৮ (পত্রাবলী)

১৮৪. “হে ভ্রাতৃবৃন্দ, আমাদের সকলকেই এখন কঠোর পরিশ্রম করিতে হইবে, এখন ঘুমাইবার সময় নহে। ঐ দেখো, ভারতমাতা ধীরে ধীরে নয়ন উন্মীলন করিতেছেন। اٹھো, তাঁহাকে জাগাও—আর নূতন জাগরণে, নূতন প্রাণে তাঁহাকে শাশ্বত সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

১৮৫. “হে মহাপ্রাণ, ওঠো, জাগো! জগৎ দুঃখে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে—তোমার কি নিদ্রা সাজে?”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৮৬. “শরীরে বল নেই, হৃদয়ে উৎসাহ নেই, মস্তিষ্কে প্রতিভা নেই। কি হবে রে, জড় পিণ্ডগুলো দিয়ে? আমি নাড়ে-চেড়ে এদের ভেতর সাড় আনতে চাই—এগুলো আমার প্রাণান্ত পণ। বেদান্তের অমোঘ মন্ত্র-বলে এদের জাগাব।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৯ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৪ (Complete Works, Vol. 9)

খ. দরিদ্রের সেবা ও গণশিক্ষা

১৮৭. “যে ধর্ম বা যে ঈশ্বর বিধবার অশ্রুমোচন করিতে পারে না অথবা অনাথ শিশুর মুখে একমুঠো খাবার দিতে পারে না, আমি সে ধর্মে বা সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না। চক্ষু আমাদের পৃষ্ঠের দিকে নয়, সামনের দিকে—অতএব সম্মুখে অগ্রসর হও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭ (পত্রাবলী)

১৮৮. “অন্ন! অন্ন! যে ভগবান এখানে আমাকে অন্ন দিতে পারেন না, তিনি যে আমাকে স্বর্গে অনন্ত সুখে রাখিবেন—ইহা আমি বিশ্বাস করি না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৮৯. “যে দেশে কোটি কোটি মানুষ মহুওয়ার ফুল খেয়ে থাকে, আর দশ-বিশ লাখ সাধু আর ক্রোর দশেক ব্রাহ্মণ ঐ গরীবদের রক্ত চুষে খায়, আর তাদের উন্নতির কোনও চেষ্টা করে না—সে কি দেশ না নরক! সে ধর্ম, না পৈশাচ নৃত্য!”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৮ (পত্রাবলী)

১৯০. “আমাদের দেশের শতকরা নব্বই জনই অশিক্ষিত, অথচ কে তাহাদের বিষয় চিন্তা করে? এই সকল বাবুর দল কিংবা তথাকথিত দেশহিতৈষীর দল কি?”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৯১. “জনসাধারণকে শিক্ষিত করা এবংাদিগকে উন্নত করাই জাতীয় জীবন-গঠনের পন্থা… তাহাদের লুপ্ত ব্যক্তিত্ববোধ আবার ফিরাইয়া দিতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩৫ (Complete Works, Vol. 6)

১৯২. “শহরের সর্বাপেক্ষা দরিদ্রগণের যেখানে বাস, সেখানে একটি মৃত্তিকানির্মিত কুটির ও হল প্রস্তুত করো… ম্যাজিক লণ্ঠন ও অন্যান্য দ্রব্যের সাহায্যে চলিত ভাষায় শিক্ষা দাও।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩১ (Complete Works, Vol. 6)

১৯৩. “দরিদ্রের শিক্ষা অধিকাংশ শ্রুতির দ্বারা হওয়া চাই… কৃষি, বাণিজ্য প্রভৃতি শেখানো যাবে এবং শিল্পাদিরও যাহাতে এদেশে উন্নতি হয়, তদুপায়ে কর্মশালা খোলা যাবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৮ (Complete Works, Vol. 7)

১৯৪. “চক্ষুই যে জ্ঞানলাভের একমাত্র দ্বার তাহা নহে, পরন্তু কর্ণ দ্বারাও শিক্ষার কার্য যথেষ্ট হইতে পারে। এইরূপ তাহারা নূতন চিন্তার সহিত পরিচিত হইতে পারে, নৈতিক শিক্ষালাভ করিতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩৭ (Complete Works, Vol. 6)

গ. সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণ ও স্বদেশমন্ত্র

১৯৫. “জাতিভেদ থাকুক বা নাই থাকুক, যে-কোনো ব্যক্তি, শ্রেণী বা জাতি যদি অপর কোনো ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তার ও কার্যের শক্তিতে বাধা দেয় (যতক্ষণ তাহা অপকারের কারণ না হয়), তাহা অতি অন্যায়; এবং যে ঐরূপ করে, তাহার পতন অবশ্যম্ভাবী।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩ (পত্রাবলী)

১৯৬. “প্রত্যেক দাসজাতির মূল পাপ হচ্ছে ঈর্ষা। আবার এই ঈর্ষা, দ্বেষ ও সহযোগিতার অভাবই এই দাসত্বকে চিরস্থায়ী ক’রে রাখে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

১৯৭. “দুটি জিনিস হইতে বিশেষ সাবধান থাকিবে—ক্ষমতাপ্রিয়তা ও ঈর্ষা। সর্বদা আত্মবিশ্বাস অভ্যাস করিতে চেষ্টা করো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০৬ (পত্রাবলী)

১৯৮. “হীন কাপুরুষের মতো অনুকরণ কখনই উন্নতির কারণ হয় না, বরং উহা মানুষের ঘোর অধঃপতনের চিহ্ন। যখন মানুষ নিজেকে ঘৃণা করিতে আরম্ভ করে, তখন বুঝিতে হইবে—তাহার উপর শেষ আঘাত পড়িয়াছে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৩ (Complete Works, Vol. 5)

১৯৯. “যাহা যবনদিগের ছিল, যাহা অবলম্বনে ইউরোপীয় বিদ্যুদাধার ঘন ঘন মহাশক্তির সঞ্চার হইয়া ভূমণ্ডল পরিক্রমণ করিতেছে, চাই তাহাই। চাই সেই উদ্যম, সেই স্বাধীনতা প্রিয়তা, সেই আত্মনির্ভর, সেই অটল ধৈর্য, সেই কার্যকারিতা, সেই একতা-বন্ধন, সেই উন্নতি-তৃষ্ণা; চাই আপাদমস্তক শিরায় শিরায় সঞ্চারকারী রজোগুণ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২ (‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’)

২০০. “আজকাল লোকে ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ (Survival of the fittest) রূপ নূতন মতবাদ লইয়া কথা বলে… যদি গায়ের জোরই বেঁচে থাকার শর্ত হতো, তবে যে জাতি যুদ্ধবিগ্রহে কাটিয়েছে তারা বেঁচে থাকত, আর এই পরমতসহিষ্ণু হিন্দুজাতি ধ্বংস হয়ে যেত।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভাবসম্পদ’ (Complete Works, Vol. 3)

২০১. “মহাপুরুষেরা বিশেষ শিক্ষা দিতে আসেন, নামের জন্যে নহে; কিন্তু চেলারা তাঁদের উপদেশ বানের জলে ভাসাইয়া নামের জন্য মারামারি করে—এই তো পৃথিবীর ইতিহাস।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৮ (পত্রাবলী)

২০২. “‘কেউ তোমাকে বলবে সাধু, কেউ বলবে চণ্ডাল, কেউ বলবে উন্মাদ, কেউ বলবে দানব—কোনোদিকে না তাকিয়ে নিজের পথে চলে যাও’—এই কথা বলেছিলেন রাজা ভর্তৃহরি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

ঘ. স্বদেশমন্ত্র ও বিশ্বমানবতা (সংযোজন)

২০৩. “ভুলিও না—তোমার নারীজাতির আদর্শ সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী; ভুলিও না—তোমার উপাস্য উমানাথ সর্বত্যাগী শঙ্কর; ভুলিও না—তোমার বিবাহ, তোমার ধন, তোমার জীবন ইন্দ্রিয়সুখের জন্য—নিজের ব্যক্তিগত সুখের জন্য নহে; ভুলিও না—তুমি জন্ম হইতেই ‘মায়ের’ জন্য বলিপ্রদত্ত; ভুলিও না—তোমার সমাজ সে বিরাট মহামায়ার ছায়ামাত্র; ভুলিও না—নীচজাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই!”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২ (‘বর্তমান ভারত’)

২০৪. “বল—‘আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই’; বল—‘মূর্খ ভারতবাসী, দরিদ্র ভারতবাসী, ব্রাহ্মণ ভারতবাসী, চণ্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই’; তুমিও কটিমাত্র বস্ত্রাবৃত হইয়া সদর্প ডাাক ডাকিয়া বল—‘ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের দেবদেবী আমার ঈশ্বর, ভারতের সমাজ আমার বাল্যকালের দোলনা, আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী’।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২ (‘বর্তমান ভারত’)

২০৫. “আমাদের জাতীয় পাপ হইল দরিদ্র সাধারণকে পদদলিত করা এবং শিক্ষার অভাব দ্বারা তাহাদিগকে পশুতুল্য রাখা। যদি ভারত আবার জাগিয়া ওঠে, তবে তাহা দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের শক্তির মাধ্যমেই জাগ্রত হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২০৬. “উপরে উঠিতে হইলে নীচের মানুষদের সঙ্গে লইয়া উঠিতে হইবে। কৃষক, মজুর, শ্রমজীবী মানুষকে অবহেলা করিয়া কোনো সমাজ বা জাতি কখনো স্থায়ী কল্যাণ লাভ করিতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৮ (Complete Works, Vol. 7)

২০৭. “যে সমাজে নারীদের সম্মান নাই এবং যেখানে তাহাদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করিবার ব্যবস্থা নাই, সেই সমাজ কখনোই মহান হইতে পারে না। এক পক্ষী কেবল একটি ডানার সাহায্যে উড়িতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

২০৮. “জাতীয়তা একটি ভালো জিনিস, কিন্তু উহা যেন অন্ধ ও সঙ্কীর্ণ না হয়। সকল দেশের মানবকল্যাণের চিন্তাকে নিজের মধ্যে গ্রহণ করাই হলো সর্বজনীন মানবের লক্ষণ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘কলিকাতায় প্রদত্ত ভাষণ’ (Complete Works, Vol. 3)

২০৯. “দাসত্বের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হলো—দাস তাহার নিজের দাসত্বকে ভালোবাসিতে শুরু করে এবং স্বাধীন চিন্তার শক্তি হারাইয়া ফেলে। আমাদের মনকে এই মানসিক দাসত্ব হইতে মুক্ত করিতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২১০. “সমগ্র বিশ্ব আজ প্রেমের ভিখারী। কেবল শক্ত প্রদর্শনের দ্বারা নয়, বরং আন্তরিক ভালোবাসা ও সেবার দ্বারাই কেবল অন্যান্য জাতির হৃদয় জয় করা সম্ভব।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

২১১. “যাঁহারা নিজের সুখ ও জীবন দেশের জন্য এবং মানবজাতির সেবায় উৎসর্গ করিতে পারেন, তাঁহাদিগকেই ইতিহাস চিরকাল স্মরণ রাখে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭ (পত্রাবলী)

২১২. “ভবিষ্যৎ ভারতের ভাগ্য তরুণদের হাতের ওপরই নির্ভর করিতেছে। যদি তোমদের মধ্যে নিষ্ঠা, পবিত্রতা ও সাহস থাকে, তবে একশো যুবক সমবেত হইয়া সমগ্র বিশ্বের চেহারা পাল্টে দিতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘মাদ্রাজ ভাষণ’ (Complete Works, Vol. 3)

৭. নারী, পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ক (২১৩–২৩৭)

ক. নারীদের স্থান, স্বাধীনতা ও শিক্ষা

২১৩. “মেয়েদের উন্নতি করতে পারো? তবে আশা আছে, নইলে পশু-জন্ম ঘুচবে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৫ (পত্রাবলী)

২১৪. “গোলামীর ওপর যে সম্পর্কটা দাঁড়িয়ে আছে, সেটা আবার কখনও ভালো হতে পারে? যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা নেই, সে জাত কখনো উন্নতি করতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

২১৫. “আমাদের কাজ নারীসমাজকে শিক্ষাদান করা; তারপর তাঁহারা নিজেরা ঠিক করিয়া লইবেন—তাাঁহাদের জন্য কী কী সংস্কার প্রয়োজন। অপরের তাঁদের বিষয়ে শাসন করিবার কোনো অধিকার নাই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

২১৬. “নারীজাতির উন্নতি এবং জনমার্গের (সাধারণ মানুষের) জাগরণ—এই দুটিরই প্রয়োজন সর্বপ্রথম, এবং তখনই কোনো দেশের তথা সমগ্র জগতের প্রকৃত কল্যাণ হতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২১৭. “পাঁচশো পুরুষের সাহায্যে ভারতবর্ষকে সসংগঠিত করতে পঞ্চাশ বছর লাগতে পারে, কিন্তু পাঁচশো নারী দ্বারা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা করা যেতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

২১৮. “নারীদের পাশ্চাত্য জ্ঞান ও বিজ্ঞান যেমন শেখাতে হবে, তেমনি জাগ্রত করতে হবে ভারতীয় আদর্শ ও ঐতিহ্যের প্রতি অটল শ্রদ্ধা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৪ (Complete Works, Vol. 7)

খ. মাতৃভাব ও ভারতীয় নারীর আদর্শ

২১৯. “জগতে মায়ের স্থান সকলের উপরে, কারণ মাতৃভাবেই সবচেয়ে বেশি নিঃস্বার্থপরতা শিক্ষা ও প্রয়োগ করা হয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

২২০. “ভারতের জননীই আদর্শ নারী। মাতৃভাবই ভারতীয় নারীত্বের আদর্শ ও শেষ কথা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের নারীসমাজ’ (Complete Works, Vol. 3)

২২১. “ভারতীয় নারীদের যে রকম হওয়া উচিত, সীতা তাহার চূড়ান্ত আদর্শ। রামায়ণ ভারতের জাতীয় জীবনের আত্মা এবং সীতা তাহার পুণ্য প্রতীক।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘মহাকাব্যসমূহ’ (Complete Works, Vol. 3)

২২২. “আমাদের দেশের মেয়েরা তেমন শিক্ষিতা নয় বটে, কিন্তু তাহারা অনেক বেশি পবিত্র ও ধর্মপরায়ণা।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২২৩. “সেই নারীও ধন্য, যাাঁহার চোখে পুরুষ ঈশ্বরের পিতৃভাবের প্রতীক।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

গ. পরিবার ও সামাজিক অধিকার

২২৪. “আমরা স্ত্রীলোককে নিচ, অধম, মহা হেয়, অপবিত্র বলি—তাহার ফল এই যে, আমরা পশু, দাস, উদ্যমহীন ও দরিদ্র হইয়া রহিয়াছি।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৫ (পত্রাবলী)

২২৫. “জনৈক সংস্কৃত কবি বলিয়াছেন—‘ন গৃহং গৃহমিত্যাহুর্গৃহিণী গৃহমুচ্যতে’ (গৃহকে গৃহ বলে না, গৃহিণীকেই গৃহ বলা হয়)। ইহা কত সত্য! যে গৃহছাদ তোমায় শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা হইতে রক্ষা করিয়া থাকে, তাহার দোষগুণ বিচার করিতে হইলে উহা যে স্তম্ভগুলির ওপর দাঁড়াইয়া আছে, তাহা দেখিলে চলিবে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভাবসম্পদ’ (Complete Works, Vol. 3)

২২৬. “যেই পরিবারে বা দেশে নারীদের সম্মান নাই এবং যেখানে তাঁহারা দুঃখে থাকেন, সেই পরিবার বা দেশের কোনো আশা নাই।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

২২৭. “নারী সহনশীলতা ও ধৈর্যের ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া দুঃখ ভোগ করিয়া তাঁহারা অসীম ধৈর্য ও অধ্যবসায় অর্জন করিয়াছেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড (Complete Works, Vol. 3)

ঘ. নারী জাগরণ ও পারিবারিক নীতি (সংযোজন)

২২৮. “আমাদের কাজ নারীসমাজকে শিক্ষা দেওয়া—বিজ্ঞান, শিল্প ও চরিত্রের উচ্চ আদর্শে তাঁহাদিগকে সুশিক্ষিত করা; কিন্তু তাঁহাদের সমস্যার সমাধান তাঁহারা নিজেরাই করিবেন। পুরুষের কোন অধিকার নাই নারীর ওপর প্রভাব বা শাসন বজায় রাখিবার।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

২২৯. “যদি নারীজাতি জাগ্রত না হয়, তবে সমগ্র সমাজের অর্ধাংশ দুর্বল ও পঙ্গু হইয়া থাকিবে। পঙ্গু সমাজ লইয়া কোনো জাতি কখনো জাতীয় জীবনের উচ্চ শিখরে আরোহণ করিতে পারে না।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৮ (Complete Works, Vol. 7)

২৩০. “প্রাচ্যের নারীর মধ্যে লজ্জা, পবিত্রতা ও সেবাভাব প্রচ্ছন্ন; আর পাশ্চাত্যের নারীর মধ্যে কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা। আমাদের নারীদের এই উভয় গুণের সুন্দর সমন্বয় ঘটাইতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’ (Complete Works, Vol. 3)

২৩১. “গৃহস্থাশ্রম হলো সমাজের ভিত্তি। আদর্শ গৃহস্থ তিনি, যিনি কেবল নিজের পরিবারের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নয়, সমাজ ও দরিদ্রের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

২৩২. “পারিবারিক জীবনে যদি পবিত্রতা ও সত্য নিষ্ঠা না থাকে, তবে শিশু কখনোই উচ্চ আদর্শ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়িয়া উঠিতে পারে না। গৃহই মানুষের প্রথম বিদ্যালয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

২৩৩. “পিতা-মাতার প্রধান কর্তব্য সন্তানকে ভালোবাসা এবং এমন শিক্ষা দেওয়া যেন সে নিজের পায়ে দাঁড়াইতে পারে ও নীতিবান নাগরিক হইতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২৩৪. “পাশ্চাত্ত্যে নারীকে দেখা হয় ‘স্ত্রী’ রূপে, কিন্তু ভারতে নারীকে দেখা হয় ‘মাতা’ রূপে। ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতিতে মাতৃভাবই নারীত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের নারীসমাজ’ (Complete Works, Vol. 3)

২৩৫. “গায়ত্রী, মৈত্রেয়ী, গার্গী ও সংঘমিতার মতো বিদুষী নারীদের জন্ম এই ভারতেই হইয়াছে। সেই প্রাচীন যুগ আবার ফিরাইয়া আনিতে হইবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৪ (Complete Works, Vol. 7)

২৩৬. “যে নারী স্বামীকে ঈশ্বরজ্ঞানে সেবা করে অথচ অন্তরে পরমেশ্বরের পবিত্রতা বজায় রাখে, তাহার স্থান সর্বোচ্চ।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

২৩৭. “নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনই সমাজের উন্নতির আসল মাপকাঠি। যে পুরুষ নারীকে সম্মান করিতে জানে না, সে প্রকৃতপক্ষে ধর্মহীন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪ (পত্রাবলী)

৮. বিবিধ ও জীবন তত্ত্ব (২৩৮–২৫০)

ক. স্বাস্থ্য, নেতৃত্ব ও সংস্কৃতি

২৩৮. “হে আমার যুবক বন্ধুগণ, তোমরা সবল হও—তোমাদের নিকট আমার এই উপদেশ। গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে। কাঁচা ছাতি লইয়া গীতার তত্ত্ব বোঝা যায় না; পেশীগুলি ও স্নায়ুগুলি শক্ত হইলে তোমরা গীতা আরও ভালো বুঝিবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভবিষ্যৎ’ (Complete Works, Vol. 3)

২৩৯. “দাদা, leader (নেতা) কি বানাতে পারা যায়? Leader জন্মায়… লিডারি করা আবার বড় শক্ত—’দাসস্য দাসঃ’, হাজারো লোকের মন জোগানো। Jealousy, selfishness (ঈর্ষা, স্বার্থপরতা) আদপে থাকবে না—তবে leader… Love conquers in the long run, দিক্ হলে চলবে না—wait, wait (অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর); সবুরে মেওয়া ফলবেই ফলবে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৯-৩৯০ (পত্রাবলী)

২৪০. “যে আগুন আমাদিগকে শীতের হাত হইতে বাঁচাইতে উত্তাপ প্রদান করে, অসাবধানতাবশত সেই আগুনই আবার ঘরদোর পুড়াইয়া ছাই করিয়া ফেলিতে পারে। আগুনে দোযও নাই, গুণও নাই; যে যেভাবে ইহাকে ব্যবহার করে, ফল সেইরূপই হয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘কর্মযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

২৪১. “আমি সর্বজনীন ধর্মে বিশ্বাস করি; তাহা কোনো নির্দিষ্ট পুস্তক, স্থান বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাহা অনন্তকালের মতো অসীম ও চিরন্তন।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘চিকাগো মহাসভা’ (Complete Works, Vol. 1)

২৪২. “সত্যকে কখনোই কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আঁকড়ে রাখা যায় না। প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন হইলেও পরম সত্য সর্বদা এক ও অদ্বিতীয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

২৪৩. “অনুকরণ কখনো জীবনের লক্ষণ হইতে পারে না। অপরের ভাব গ্রহণ করো, কিন্তু তাহাকে নিজের মতো করিয়া হজম করিয়া নিজের বৈশিষ্ট্যে বাঁচিয়া থাকো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভারতের ভাবসম্পদ’ (Complete Works, Vol. 3)

২৪৪. “মনকে সদাসর্বদা আনন্দময় ও প্রফুল্ল রাখো। বিষণ্ণতা ও মলিন মুখ কখনোই ধর্মের বা আধ্যাত্মিকতার লক্ষণ নয়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ১ম খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 1)

২৪৫. “প্রফুল্লতাই ধর্মের লক্ষণ, বিষণ্ণতা নয়। যাহারা সদাসর্বদা বিষণ্ণ বা গম্ভীর হইয়া থাকে, তাহাদের চিত্ত বিশুদ্ধ নয়; প্রফুল্ল মনই ধর্মপথে অগ্রসর হইতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘ভক্তিযোগ’ (Complete Works, Vol. 3)

২৪৬. “সঙ্গীত হইল সর্বোচ্চ সাহিত্য ও উপাসনা। গান ও সুরের মাধ্যমে মানুষ সহজেই অন্তরের ভাবকে বিশ্বজনীন রূপ দিতে পারে এবং আধ্যাত্মিক ভাবের উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (Complete Works, Vol. 5)

২৪৭. “আমাদের ভাষা হইতে সমস্ত প্রকার ক্লীবতা ও কৃত্রিমতা দূর করিতে হইবে। মনের ভাবকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করিবার জন্য সহজ, সরল ও তেজস্বী ভাষা ব্যবহার করাই কাম্য।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ‘বাংলা ভাষা’ (Complete Works, Vol. 6)

খ. বিশ্বমানবাচ্ছন্ন ভাবনা (সংযোজন)

২৪৮. “বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটি ভিন্ন বস্তু নয়; ইহা একই পরম সত্যকে জানিবার দুটি ভিন্ন পদ্ধতি। বিজ্ঞান অনুসন্ধান করে বাহ্যিক প্রকৃতিকে, আর আধ্যাত্মিকতা অনুসন্ধান করে অন্তরের সত্যকে।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, ‘জ্ঞানযোগ’ (Complete Works, Vol. 2)

২৪৯. “সংকীর্ণ হৃদয় লইয়া কখনো মহৎ কিছু করা যায় না। নিজের হৃদয়কে সাগরের মতো বিশাল করো, যেন বিশ্বের সকল দুঃখ ও কষ্ট তাহাতে ঠাঁই পায়।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড (পত্রাবলী)

২৫০. “হে মানব, জাগো! তোমার সুপ্ত মহত্ত্বকে চিনতে শেখো। তোমার মধ্যে বিদ্যমান অনন্ত আত্মশক্তিকে জাগ্রত করে বিশ্বকল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ো।”

উৎস: বাণী ও রচনা, ৩য় খণ্ড, ‘কলিকাতা ভাষণ’ (Complete Works, Vol. 3)

Previous Article

Panchatantra Wonder of World Literature.

Write a Comment

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Subscribe to our Newsletter

Subscribe to our email newsletter to get the latest posts delivered right to your email.
Pure inspiration, zero spam ✨
Translate »