রাস্তার পাশে একটি ছেলে বনবন করে লাটিম ঘোরাচ্ছিল। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম। কাজে যাওয়ার তাড়া থাকায় একটি চলন্ত ভ্যানের পেছনে উঠে পড়লাম।
সামনে দুজন যাত্রী—একজন মহিলা, অন্যজন পুরুষ।
কিছুক্ষণ পরে একটি স্টেশনে এসে মহিলা ভ্যান থেকে নেমে সোজা গন্তব্যের দিকে হাঁটতে শুরু করলেন। ভ্যানচালক তাঁকে ডাকলেন,
— “আপা, ভাড়াটা দেন।”
তিনি ফিরে তাকালেন।
মধ্যবয়সী। বেশ পরিপাটি। সুন্দর মুখশ্রী।
বললেন,
— “আমি তো ভাড়া দিয়েছি।”
চালক বললেন,
— “না, দেন নাই।”
তিনি শাড়ির আঁচল থেকে মোড়ানো দশ টাকার কয়েকটি নোট বের করে বললেন,
— “ভ্যানে ওঠার আগে দোকান থেকে একটি একশ টাকার নোট ভাঙিয়েছি। দশ টাকা আপনাকে দিয়ে ভ্যানে উঠেছি। বাকি নয়টি আমার কাছে আছে। এই দেখুন।”
তিনি নোটগুলোর ভাঁজ খুলে সবার সামনে দেখাতে চাইলেন।
চারপাশে কয়েকজন ভ্যানচালক ও কৌতূহলী পথচারী জড়ো হলো।
এবার ভ্যানচালক নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে বললেন,
— “আমি বাড়ি থেকে একশ টাকা নিয়ে বের হয়েছি। এই দুইজন যাত্রীকে নামিয়েছি। তারা দিয়েছে ত্রিশ টাকা। এই দেখেন—একশ ত্রিশ টাকা।”
উপস্থিত সবাই স্তব্ধ। যারা কিছু বলতে চেয়েছিল, তারাও একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে গেল।
ভ্যানচালক বললেন,
— “কত লোককে তো ভাড়া ছাড়াই নিয়ে যাই। আপনি সত্যি বললেই পারতেন।”
মহিলা শান্ত গলায় বললেন,
— “আমি আপনাকে ভাড়া দিয়েছি।”
আর কোনো কথা হলো না।
মহিলা ধীরে ধীরে চলে গেলেন।
চাকা ঘুরতে ঘুরতে ভ্যানটিও এগিয়ে চলল।