হুমায়ন আহমদের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রথমে তিনি চূড়ান্ত সাবধানবানী করে বলেন–
“এই লেখাতে আমার সম্পর্কে একটিও খারাপ মন্তব্য দেখতে চাই না!
এই সত্যি কথাগুলো আমি লিখেছি শুধুমাত্র কিশোরী, তরুণী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্যে।এত ব্যক্তিগত ঘটনা লিখেছি, কারণ আর কোনো মেয়ে আমার (পুরো বিয়েটাতে আমার চেয়ে অভিভাবকদের বেশি ভুল ছিল) মতো ভুল যেন না করে।”
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন—
১।তার নিজের নামে কোন একাউন্ট নাই, হুমায়ন আহমেদের কত টাকা আছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
২।একজন মেয়ের সঙ্গে হুমায়ন আহমেদের সব ধরনের সম্পর্ক আছে যা হুমায়ূন তাকে নিজেই জানিয়েছেন। তিনি নাম না বলেন -তারা এখন বিয়ে করে শান্তিতে আছেন। কী দরকার তাদের নাম বলার!
৩।ডিভোর্স তাকে হুমায়ন দিয়েছেন তিনি নন।
৪। “তার আত্মজীবনীমূলক বই এ অনেক কিছুই তার কল্পনা থেকে লেখা। ওই সব বই লেখার সময় আমি তাকে বারবার বলেছিলাম ওসব না লিখতে! কিন্তু উনি আমাকে তখন বলেছিলেন, একদম সত্যি হচ্ছে জলের মতো, কোনো স্বাধহীন, তাই কিছু মিথ্যা থাকলে লোকজন পড়ে মজা পাবে!আমি শুধু তার পায়ে ধরে বাকি রেখেছিলাম। বারবার বলেছি, আমার সম্পর্কে কিছু না লিখতে।”
৫। হুমায়ুন পরীক্ষায় পিএইচডি এর পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পেয়ে ডিসেম্বর মাসের প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন।তার গায়ে তখন একটি শার্ট এবং প্যান্ট, পায়ে স্পন্জের স্যান্ডেল তিনি শীতে কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলতে অনুরোধ করা সত্ত্বেও দরজা খোলেন নাই। একসময় তার হাত–পা প্রায় জমে আসে! তখন দৌড়াতে থাকে সৌভাগ্যক্রমে এক পরিচিত আমেরিকান বৃদ্ধা দোকানীর ঘরে সাময়িক আশ্রয় পান । সেখান থেকে পরিচিত একজনকে ফোন করে সবকিছু বলেন এবং সে তাকে নিয়ে যান এবং রাতে তার কাছে থাকেন।
তার ভাষ্যমতে-
“নোভার কথা ভেবে কষ্ট গলার ভেতর আটকে গেল! এখানে আমার মা-বাবা, ভাইবোন, কোনো আত্মীয়স্বজন নেই! কী করে সে পারল এমন করতে? সারা রাত কাঁদতে কাঁদতে কাটলো।”
“সকালে ওরা ডিভোর্সের কথা উঠলে….
আমি ভয়ে আঁতকে উঠি! না, না। হুমায়ূন আমাকে অনেক ভালোবাসে! রাগের মাথায় ওসব করেছে! তুমি আমাকে একটু বাসায় দিয়ে আসতে পারবে? নোভার জন্য খুব মন খারাপ লাগছে!”
গুলকেতিন খান, শেষে প্রশ্ন রেখে শেষ করেছেন-
“আসলে তখনই নোভাকে নিয়ে দেশে ফিরে ওই ভদ্রলোককে ডিভোর্স দেয়া উচিত ছিল, তাই না?’ কিন্তু পারিনি!”
আমার মনে হয় গুলকেতিন খান আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এ ভুগছেন..
তার পার্সোনালিটি প্রবলেম ও সমস্ত দায়ভার হুমায়ুনের উপর চাপাতে চান যা গড়পড়তা বাঙালী মানুষিকতার পরিচয়। অনেকটা উত্তমকুমার ও গৌরিদেবীর সমস্যার মত যদিও অমিল ও কম নয়। এর পাশাপাশি যদি বিখ্যাত বাঙালী ডিভোর্সি জুটি অমর্ত্য সেন – নবনীতা দেবসেন, বরিশঙ্কর-অন্নপূর্ণাদেবী, বিজন ভট্টাচার্য ও মহাশ্বেতা দেবী, ফরিদি-মুস্তফা ডিভোর্স পরবর্তী পারস্পরিক নিরবতা এবং সম্মানবোধ দেখি তখন বিষয়টি পরিস্কার হবে। নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ও পার্সোনালিটি প্রবলেম না থাকলে কেউ নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে? এটা কতটা যুক্তিযুক্ত? সেটা আবার ফেসবুক পোস্ট এ? আবার সেটা এমন এক সময় করেছেন যখন হুমায়ুন আহমেদ মারা গেছেন। গুলকেতিন খান একাকিত্ব দূর করার জন্য নিজে পুনরায় বিবাহ করেছেন এবং তার দ্বিতীয় স্বামী ও গত হয়েছেন। এত কিছুর পরেও কি তাহলে গুলকেতিন খান নিজের আইডেন্টিটির জন্য এখনো হুমায়ন আহমেদের উপর নির্ভরশীল? তিনি কি পোস্ট কোনরূপ বিরূপ মন্তব্য না করার হুশিয়ারি দিয়ে কেনো দিলেন? তার অর্থ কি এই সেখানে তার পক্ষে মন্তব্য করা যাবে কিন্তু বিপক্ষে মন্তব্য করা যাবে না?হুমায়ন আহমেদ তার প্রাক্তন স্বামী আরো বড় বিষয় হচ্ছে তার একাধিক সন্তানের জনক তিনি তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ নিশ্চয়ই করতে পারেন। সেখানে ভালো মন্দ সকল বিষয়ই আসতে পারে বিশেষ করে একাধিক সন্তান ও তাদের সন্তানসন্ততি সহ ডিভোর্স এর মত ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটা কেনো হুমায়ুন আহমেদ জীবিত থাকতে নয়? কেনো আর একজনকে বিয়ে করা এবং তার ও মৃত্যুর পরে কেনো? যতগুলো পয়েন্ট নিয়ে কথা বলেছেন সবগুলোই হুমায়ুন আহমেদ এর নেতিবাচক দিক নিয়ে। তাহলে স্বামী হিসাবে তার কোন গুন কি ছিলো না? এখানে তিনি লেখক হিসাবে ও হুমায়ুন আহমেদকে মিথ্যাবাদী বলেছেন? লেখক হিসাবে কি হুমায়নের কোন গুন ছিলো না? হুমায়ুন আহমেদ যখন নিজে অন্য একটি মেয়ের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক আছে বলে জানিয়েছেন তাহলে হুমায়ূন আহমেদকে এখানে সৎ বলতে হয়। সেই প্রসঙ্গ বা তিনি টানলেন কেনো? তাহলে কি তার উদ্দেশ্য কি অভিভাবকদের সচেতন করা নাকি তার নিজের ক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত করে আলোচনার লাইমলাইটে আসা? কেননা এই পোস্ট যদি কেউ কোন কারনে পড়ে তা হুমায়ন আহমেদকে নিয়ে লেখা তাই ব্যক্তি গুলকেতিন খান এখানে গৌণ!